পলিথিনের খুপরি ছেড়ে স্বপ্নের ঘরে জেলেখা বেগম

জনতার আস্থা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮ মে ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ পঠিত: ৩৬৯ বার
ফেসবুক টুইট হোয়াটসএপ

আবু সুফিয়ান পারভেজ, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম):

বাঁশের ঝাড়ের নিচে পলিথিন টাঙানো একচিলতে জায়গায় অতি কষ্টে দিন পার করছিলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের জেলেখা বেগম। রোদ-বৃষ্টি আর অভাবের সাথে লড়াই করা সেই অসহায় নারীর জীবনে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘রশিদ মন্ডল ফাউন্ডেশন’। মানবিক এই সংগঠনের প্রচেষ্টায় এবং সহৃদয় ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় আজ মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ঠিকানা ও সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা পেলেন তিনি।

​শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) দুপুরে বেরুবাড়ি ইউনিয়নের খামার লোকুনা গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলেখা বেগমের হাতে নবনির্মিত ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। কেবল ঘরই নয়, তাঁর সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য একটি টিউবওয়েল, স্যানিটারি টয়লেট এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও প্রদান করা হয়েছে। এই পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৮২,৪৫০ টাকা।

চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিন, উদ্যোক্তা নাসিরা খন্দকার নিসা, সমাজসেবক রাশেদুজ্জামান, নাগেশ্বরী ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি রাশেদ আহম্মেদ এবং রশিদ মন্ডল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান। এছাড়াও সংগঠনের সভাপতি আনিসুর রহমান, সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান মিঠুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।

​জেলেখা বেগমের এই পরিবর্তনের গল্পের শুরুটা হয়েছিল রশিদ মন্ডল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজানের হাত ধরে। ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বামুনের ভিটা গ্রামে জেলেখা বেগমের মানবেতর বসবাসের দৃশ্য দেখে তিনি ঘর তৈরির উদ্যোগ নেন। নিজের ফেসবুক আইডিতে জেলেখার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন দেশ-বিদেশের অনেক দানশীল ব্যক্তি। এই তহবিল সংগ্রহে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সমাজসেবক মিন্টু শেখ, মিম আক্তার, নাজমা আক্তার নিলা, বেলাল খান ও লাবলু মিয়াসহ আরও অনেকে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংগৃহীত ৬৫ হাজার টাকার ফান্ডের সাথে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে আধুনিক আবাসের ব্যবস্থা করা হয়।

অনুষ্ঠানে রশিদ মন্ডল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “আমরা সব সময় আমাদের উপজেলার সুবিধা বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। জেলেখা বেগমের কষ্ট দেখে আমাদের যে মানবিক তাগিদ তৈরি হয়েছিল, আজ তাঁর মুখে হাসি দেখে সেটি পূর্ণতা পেল। ইনশাআল্লাহ, আমাদের এই মানবিক কাজগুলো ভবিষ্যতে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

​নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত জেলেখা বেগম সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দোয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পলিথিনের খুপরি ছেড়ে এখন থেকে তিনি নিজের টিনের ছাউনির নিচে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।

টপিক:
মতামত জানান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *