জ্বালানি তেলে মজুতদারির অভিযোগ: দায় কার?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ পঠিত: ১৪৯ বার
ফেসবুক টুইট হোয়াটসএপ

জনতার আস্থা ডেস্ক:

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়লেও, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমেনি, এমনটাই বলছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে এর মধ্যেই দেশে তেলের পাচার, কালোবাজারি ও মজুতদারির অভিযোগ জোরালো হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার পেট্রোল পাম্প ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে নজরদারি জোরদার করতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়মিত মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মজুতদারি ঠেকাতে দেশের ৯টি জেলার ১৯টি তেল ডিপোতে বিজিবি মোতায়েনের কথাও জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দেশের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং তেল পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

সরকারি এই পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত করছে, সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, তার পেছনে মজুতদারির সম্ভাবনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বলেন, পেট্রোল পাম্পে তেল মজুতের কোনো সুযোগ নেই। সরকার চাইলে খুব সহজেই বিষয়টি যাচাই করতে পারে।

অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতে, পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, ইরান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব না থাকলেও বাজারে ‘প্যানিক বায়িং’ এবং ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশঙ্কায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুতদারির প্রবণতা সংকটকে বাড়িয়ে তুলেছে।

আইনি দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়—সংকটের জন্য দায়ী কে? সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, নাকি অসাধু চক্রের কারসাজি, এখন সেটিই খতিয়ে দেখার বিষয়।

টপিক:
মতামত জানান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *