এ এস খোকন, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)
টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারীর একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক ধসে পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের পশ্চিম মইদাম গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ফুলকুমার নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালের মুখে নির্মিত একটি কালভার্টসহ সড়কের বড় অংশ ধসে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন পাথরডুবি ও পশ্চিম মইদাম গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও কৃষকেরা। ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশ পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এখন প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশ পার হয়ে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও কর্মস্থলে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ও হাসেন আলী বলেন, দুই গ্রামের মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকেরা ফসল আনা-নেওয়া করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে চরম কষ্ট হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে পার হতে গিয়ে প্রায়ই মানুষ পড়ে আহত হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ভাঙা রাস্তা পার হয়ে স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। পানি ও কাদায় জুতা-প্যান্ট ভিজে যায়। কখনো পা পিছলে পড়ে গেলে আর স্কুলে যেতে পারি না।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সড়কটি ধসে পড়ায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তাঁরা।
পাথরডুবি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, সড়কটি উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়েছে এবং লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এমপি মহোদয়ের বরাদ্দের জন্যও নাম পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা এখন জরুরি।
উপজেলা প্রকৌশলী ইনছাফুল হক সরকার বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে সড়কটি ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কটি এখনো আইডিভুক্ত না হওয়ায় প্রকল্প নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আইডিভুক্ত করে এলজিইডির আওতায় উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া উপজেলা সমন্বয় সভায় এডিবির মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ বলেন, এ বছর আমাদের বরাদ্ধ না থাকায় আগামী অর্থ বছরের বরাদ্দ পেলে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

মতামত জানান