ভুরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

জনতার আস্থা ডেস্ক
প্রকাশিত: 29 June 2026, 3:26 PM পঠিত: ২৩৪ বার
ফেসবুক টুইট হোয়াটসএপ

এ এস খোকন, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম):

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের পানি দ্রুত বাড়ছে। গত নয় ঘণ্টায় নদটির পানি ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বন্যা ও নদীভাঙনের আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে। প্রশাসন বলছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ২৯ দশমিক ৮৩ মিটার। আগের দিন রোববার রাত ৯টায় একই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৫৮ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার। সেই হিসাবে বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

নদীতীরবর্তী ছিট পাইকেরছড়া এলাকার বাসিন্দা জাইদুল ইসলাম বলেন, বাড়ির সীমানা পর্যন্ত পানি চলে এসেছে। পরিবার ও গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আশপাশের অনেক বাড়ি পানিবন্দী হয়ে গেছে। আর একটু পানি বাড়লেই আমার বাড়িতেও পানি উঠবে।

ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, পানি বাড়ায় চর ও নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।

পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পাইকডাঙ্গা ও ছিট পাইকেরছড়া গ্রামের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, তাঁর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুরো এলাকা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু এলাকা পানি বন্দী হয়ে পড়েছে । কয়েকটি স্থানে নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মিত নতুন একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প।

শিলখুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু বসতবাড়ি পানিবন্দী হয়েছে। তিনি নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন। তাঁর ভাষ্য, এখন পানি কিছুটা কমলেও বিকেলের পরিস্থিতি কী হবে, তা বলা যাচ্ছে না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। দুর্গতদের সহায়তায় ৩০ টন জিআর চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য নৌকা, শুকনো খাবার ও মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

টপিক:
মতামত জানান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!